ভোটের হাওয়া তিন সিটিতে

সংবাদদাতা
সংবাদদাতা
প্রকাশিত: 0৯:৩0, জুন ২৮ ২0১৮ |
Print
ফাইল ছবি

 ডেস্ক রিপোর্ট :

  রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এরই মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে তিন সিটিতে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এবারে নির্বাচনী লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্যান্য দলের মেয়র প্রার্থীরা থাকছেন। সেই সঙ্গে সিলেটে বিএনপি ও বরিশালে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন। রাজশাহীতে মেয়র পদে ৬ জন প্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৭০ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫২ জন ও সিলেটে মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৭ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৩ জন এবং বরিশালে মেয়র পদে ৮ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৪ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গতকাল তিন সিটিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১-২ জুলাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জুলাই এবং ১০ জুলাই চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর তারা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। এরপর ভোট গ্রহণ হবে ৩০ জুলাই।

রাজশাহীতে মেয়র পদে ৬ প্রার্থী : রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল গতকাল। এদিন সকাল থেকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা সমর্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

সকাল থেকে রাজশাহীর আকাশ ছিল কিছুটা গুমোট। থেমে থেমে ঝরেছে বৃষ্টি। কিন্তু সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রার্থীরা হাজির হয়েছিলেন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে। সিটিতে মেয়র পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন আওয়ামী লীগের এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ওয়াসিউর রহমান দোলন, হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র), গণসংহতি আন্দোলনের (স্বতস্ত্র) অ্যাডভোকেট মুরাদ মোর্শেদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া এ সিটির ৩০টি ওয়ার্ড ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে।

সরগরম সিলেট, মেয়র পদে ৯ প্রার্থী : সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে ঘিরে এখন সরগরম সিলেটের রাজনীতি। ভোটের হাওয়ায় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা যেমন শামিল হয়েছেন, তেমনি সাধারণ নগরবাসীও নির্বাচনী সুরে সুর মেলাচ্ছেন। এ সিটিতে মেয়র পদে ৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৭ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে মেয়র পদে ১১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। গতকাল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী (সদ্য সাবেক সিটি মেয়র) আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বেলা ১টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেন সাবেক সিটি মেয়র কামরান। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক উপস্থিত ছিলেন। পরে কামরান বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত। আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী ও সুসংগঠিত অবস্থায় আছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘এই নগরীতে আমি যাদের কাছ থেকে স্নেহ, মায়া ও শাসন পেয়েছি, যারা আমাকে তিলে তিলে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, তাদের সহযোগিতায় নৌকা প্রতীক বিজয়ী হবে। ’ গত পাঁচ বছরে সিলেট সিটির উন্নয়নে যত বরাদ্দ এসেছে, তা সঠিকভাবে খরচ হয়নি বলে অভিযোগ করেন কামরান।

বরিশালে মেয়র পদে ৮ প্রার্থী : এ সিটিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সাদিক আবদুল্লাহ, বিএনপির সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ, বাসদের ডা. মণীষা চক্রবর্তী, খেলাফত মজলিসের একেএম মাহাবুব এবং স্বতন্ত্র হিসেবে (জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী) বশির আহম্মেদ ঝুনু রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও তিনি জমা দেননি।

গতকাল বেলা ১২টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আলাদা করে তার কোনো নির্বাচনী ইশতেহার নেই। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতেই মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। দুপুর আড়াইটার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও বরিশাল সিটির প্রথম সাবেক মেয়র সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। পরে তিনি বলেন, সরকার তার প্রয়োজনেই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বাধ্য হবে। বরিশাল সিটির ভোটে কোনো অনিয়ম হলে তার সমুদয় দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।



বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - janoterkontho@gmail.com or মতিঝিল অফিসঃ খান ম্যানশন, ১০৭ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

আপনার মতামত লিখুন :