সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে কঠোর আইন

সংবাদদাতা
সংবাদদাতা
প্রকাশিত: 0৯:0৫, মার্চ ৩১ ২0১৯ |
Print
ফাইল ছবি

জনতারকন্ঠ ডেস্ক :

   ‘স্বার্থ সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৯’ শিরোনামে কঠোর আইন আসছে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য। সরকারি পদে থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার নিকটাত্মীয়-স্বজনকে কোনো ধরনের সুবিধা দিতে পারবেন না- এমন বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে আইন কমিশন। এরমধ্যে আইন লঙ্ঘনকারীকে সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম এবং সর্বনিম্ন ১ বছর কারাদণ্ড দেয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ সংক্রান্ত একটি আইনের প্রস্তাব আইন কমিশনে পাঠিয়েছিল। দুদকের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়, অবসরে যাওয়ার দুই বছরের মধ্যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে (চাকরিরত অবস্থায় যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার কাজের সংশ্লিষ্টতা ছিল) কাজ করতে পারবেন না।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ছেলেমেয়ে, স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো দরপত্র কিংবা নিয়োগসংক্রান্ত কোনো কাজে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি কোনো সচিবের মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিতে তার পরিবারের সদস্যরা পরিচালক পদে থাকতে পারবেন না।

কোনো সরকারি বা বেসরকারি কর্তৃপক্ষ বা দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা পরামর্শক বা সদস্য তার নিজের বা অপর কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে তার দাপ্তরিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অপর কোনো ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবেন না।

এ আইনে কেউ ক্রিমিনাল অফেন্সের (ফৌজদারি অপরাধ) উদ্দেশ্যে আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আইনের বিধান লঙ্ঘনে সহায়তাকারীকে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া যাবে। এমনকি কোনো ব্যক্তি এ আইনের বিধান লঙ্ঘনে উদ্যোগ নিলে বা কাউকে লঙ্ঘনে প্ররোচিত করলে তাকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

এ আইনের অধীন অপরাধের বিচার করবেন এখতিয়ার সম্পন্ন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অথবা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিচারিক আদালত। আদালত এ আইনের অধীন কোনো অপরাধ আমলে নিতে পারবেন এবং বিচার করতে পারবেন। এ আইনের অধীন সব অপরাধ হবে আমলযোগ্য। তবে জামিনযোগ্য।

কি কারণে এ ধরনের আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমরা স্বজনপ্রীতি ঠেকাতে একটি খসড়া আইন কমিশনে পাঠাই। আমি যেখানে চাকরি করব। আমার কোনো আত্মীয়স্বজন সেখানে আসবে না।

তারা আমার প্রতিষ্ঠানের কোনো আর্থিক কাজে অংশ নিতে পারবে না। আমি আমার প্রতিষ্ঠান বলতে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কথাই বলছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভবিষ্যতের আশায় কেউ কেউ পদে থেকে কাউকে না কাউকে অনৈতিক সুবিধা দিচ্ছেন। ব্যাংকারের আত্মীয়রা ঋণ পাচ্ছেন। এসব বন্ধ করতে হবে। এ আইন কার্যকর হলে স্বজনপ্রীতি করার সুযোগ থাকবে না।

খসড়া আইনের ১৭(১) ধারায় বলা হয়, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আইনের অধীন প্রদত্ত দায়িত্ব পালন ও কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে ‘স্বার্থ সংঘাত প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা কমিশন’ নামে সরকার একটি কমিশন গঠন করবে।

যার প্রধান থাকবেন একজন চেয়ারম্যান। যিনি হবেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। এছাড়া ৪ জন সদস্য থাকবেন। যাদের মধ্যে ১ জন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ সমপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সিভিল সোসাইটি থেকে ৩ জন থাকবেন। যাদের মধ্যে খ্যাতি, সামর্থ্য, সততা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে।

খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, ‘কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ একটি কোম্পানিকে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণদান করল। ওই কোম্পানি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যের পারিবারিক মালিকানাধীন যা পরিচালনা পর্ষদের বেশিরভাগ সদস্য জ্ঞাত ছিলেন।

ওই পরিচালনা পর্ষদের দু’জন সদস্য ওই ঋণদানের বিরোধিতা করেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতে ঋণটি মঞ্জুর হয়। পরিচালনা পর্ষদের বিরোধিতাকারী ওই দু’জন পর্ষদ সদস্য ছাড়া বাকি সদস্যরা এ আইনের আওতায় অভিযুক্ত হবেন।

বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জ কমিশনের একজন পরিচালক জনাব ‘ব’ যোগসাজশ করে যদি একটি কোম্পানির শেয়ারের অবৈধ মূল্যবৃদ্ধি করেন তাহলে ওই পরিচালকও এ আইনের আওতায় আসবেন।’


জনতারকন্ঠ/অনপি

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - janoterkontho@gmail.com or মতিঝিল অফিসঃ খান ম্যানশন, ১০৭ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

আপনার মতামত লিখুন :