শিক্ষার্থীরা বইয়ের বোঝার বদলে আইপ্যাড নিয়ে স্কুলে যাবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবাদদাতা
সংবাদদাতা
প্রকাশিত: 0৫:৩২, মার্চ ৩১ ২0১৯ |
Print
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন

জনতারকন্ঠ ডেস্ক :

  পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বইয়ের বোঝার বদলে একটি করে আইপ্যাড নিয়ে স্কুলে যাবে। আজ শনিবার সিলেটে একাধিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে মানবসম্পদ। আমরা খুব ভাগ্যবান যে, ৪৯ ভাগ জনগণ ২৫ বছরের নিচে, যারা কর্মক্ষম। এই বিপুল সংখ্যক জনগণকে উন্নত প্রশিক্ষণ ও গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে সত্যিকারের সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’


এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে টিকে থাকতে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তি ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। স্কুলের শিক্ষার্থীদের বইয়ের বোঝা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বদলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে আইপ্যাড তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের যত ভালো জিনিস আছে, তা তারা সহজে পেয়ে যাবে।


১.৭ বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল ল্যাব প্রকল্প, যার ৯৫ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে হবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সব ছেলেমেয়ে প্রযুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে নিজেরা চাকরি করবে, চাকরির জন্য কারও দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। সারা পৃথিবী হবে তাদের কর্মক্ষেত্র। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।’


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ৩ লাখ ৫৬ হাজার ক্লাসরুমে স্মার্ট বোর্ড চালু করা হবে। এখনো সব জায়গায় ডিজিটাল ল্যাব হয়নি। প্রত্যেক স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব দেওয়া হবে, যাতে ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তিতে পারদর্শী হয়। পুঁথিগত শিক্ষা নয়, আনন্দ-খেলার মধ্যে বিশ্বের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। যাতে তাদের মনে অনুসন্ধিৎসু চিন্তাভাবনা সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, সরকার ডিজিটাল ল্যাব, আইপ্যাড ও বিদ্যালয়ের ভবন তৈরি করে দেবে। এগুলো উপকরণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এর যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তবেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কর্ণধার হতে পারবে।

আব্দুল মোমেন আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে হবে। এতে খরচ কমবে এবং সময় বাঁচবে। অন্যথায় খরচ বাড়বে এবং মানুষের হয়রানি হবে। দেশের উন্নয়ন বেগবান করতে এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা সাংবাদিকদের দায়িত্ব বলেও মনে করেন তিনি।


মন্ত্রী বেলা আড়াইটায় সিলেট প্রেসক্লাবে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুরে তিনি সিলেট কিশোরী মোহন উচ্চবিদ্যালয়, সকালে দেশসেরা সিলেট সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভা এবং সিলেট পুলিশ লাইন উচ্চবিদ্যালয়ে ই-লার্নিং বিষয়ক মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।


সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রস্তাবিত সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন সেলিম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।


কিশোরী মোহন স্কুলের অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফয়জুল আনোয়ার ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌরা ঘোষ প্রমুখ বক্তব্য দেন।


মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে পুলিশ লাইন স্কুলের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহামুদ-উল হক, সিলেটের পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচারক অধ্যাপক ড. সামসুন নাহার, ইথিক্স অ্যাডভান্সড টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান।


জনতারকন্ঠ/পিডি

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - janoterkontho@gmail.com or মতিঝিল অফিসঃ খান ম্যানশন, ১০৭ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

আপনার মতামত লিখুন :