বিক্ষোভের মধ্যেই কাশ্মীর সফরে ইইউ এমপিরা

সংবাদদাতা
সংবাদদাতা
প্রকাশিত: 0২:১0, অক্টোবর ৩0 ২0১৯ |
Print
ফাইল ছবি
নিউজ ডেস্ক,জনতার কন্ঠ:

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাছাই করা সদস্যকে এনে কাশ্মীর সম্পর্কে ইতিবাচক প্রচার পেতে চেয়েছিলেন মোদি সরকার। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সেই প্রতিনিধি দলের সফরের বিরুদ্ধে রাজ্যে দফায় দফায় বিক্ষোভ এবং পরে কুলগামে জঙ্গি হামলায় পাঁচ বাঙালি শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা উপত্যকার ভিন্ন ছবিই দেখলো তারা ।

বুধবার ইইউ এমপিদের কাশ্মীরের অনন্তনাগ ও কুপওয়ারায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিক্ষোভের জেরে তাদের সেই সফর বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রীনগর, গান্ধেরবাল, বদগাম, বারামুলা, কুপওয়ারা, বান্দিপোরা, সোপোর, অনন্তনাগ, পুলওয়ামা, শোপিয়ান, কুলগামে বিক্ষোভ শুরু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, কমপক্ষে ২৩টি এলাকায় বিক্ষোভকারী জনতার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। পুলওয়ামার দ্রাবগামে একটি স্কুলের বাইরে দশম শ্রেণির পরীক্ষা চলাকালীন সিআরপিএফের মোবাইল বাঙ্কার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। এর পরেই পাঁচ বাঙালি শ্রমিকদের হত্যা করে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

এত দিন ধরে ভারত কাশ্মীরের পরিস্থিত শান্ত ও স্থিতিশীল বলে যে দাবি করে আসছিলো মঙ্গলবার তার বিপরীত চিত্রই দেখা গেল। যদিও উপত্যকার স্বাভাবিক ছবিটি আন্তর্জাতিক দলের কাছে তুলে ধরতে চেষ্টার কমতি রাখেনি মোদি সরকার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে দশম শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

কিন্তু অন্যান্য দিন সকালে কিছু দোকান খোলা থাকলেও মঙ্গলবার বন্ধ ছিল সব দোকান। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা জেলে। হরতালের ডাকও দেওয়া হয়নি। ইউরোপীয় সদস্যদের সফরের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এই বিক্ষোভের কারণে স্তব্ধ হয়ে যায় গণপরিবহণ ব্যবস্থাও।

এর মধ্যেই ইউরোপীয় সদস্যদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেনার ১৫ নম্বর কোরের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের কাশ্মীর পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন সেনাকর্তারা। মধ্যাহ্নভোজের পরে ওই সদস্যেরা একটি পাঁচতারা হোটেলে বিজেপির যুব শাখার কয়েক জন নেতা এবং উপত্যকার কয়েক জন গ্রামপ্রধানের (পঞ্চ-সরপঞ্চ) সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাদের বৈঠকের কথা থাকলেও তা হয়েছে কি না, স্পষ্ট নয়। পরে ডাল লেকে শিকারায় বেড়াতে দেখা গিয়েছে ইউরোপীয় জনপ্রতিনিধিদের।

এদিকে মঙ্গলবার কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ফের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন। তাদের মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল বলেন, ‘কাশ্মীরের মানুষ এখনও অনেক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।’ তিনি ভারতের প্রতি কাশ্মীরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সেখানকার বসিন্দাদের মানবাধিকার ফিরিয়ে দেয়ারও দাবি জানান।

সূত্র: আনন্দবাজার

//এল//
বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - janoterkontho@gmail.com or মতিঝিল অফিসঃ খান ম্যানশন, ১০৭ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

আপনার মতামত লিখুন :