বিক্ষোভে উত্তাল আসাম, সেনা মোতায়েন

সংবাদদাতা
সংবাদদাতা
প্রকাশিত: 0১:২৩, ডিসেম্বর ১২ ২0১৯ |
Print
ফাইল ছবি
নিউজ ডেস্ক,জনতার কন্ঠ:

বিতর্কিত, সাম্প্রদায়িক ও মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ভারতের আসাম। গত কদিন ধরেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। গতকাল বুধবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে সেখানকার পরিস্থিতি। বিলের প্রতিবাদে করা আন্দোলন যেন মুহূর্তে সহিংস রূপ পায়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। ইতিমধ্যেই রাজ্যটির চারটি অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো রাজ্যজুড়েই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিক্ষোভের মধ্যেই লোকসভার পর বুধবার রাজ্যসভাতেও পাস হয়েছে বিতর্কিত এই নাগরিকত্ব বিল। সেখানে এ বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১২৫টি। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৯৯টি। নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ধারাবাহিকভাবে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিলটি পাস হলে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে আন্দোলনকারীরা। এর জেরেই শেষ পর্যন্ত আন্দোলন দমনে সেনা মোতায়েনে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

সেনা মোতায়েন নিয়ে সংবাদমাধ্যম পিটিআই-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল পি খোঙ্গসাই। তিনি জানান, গুয়াহাটি শহরে দুই কলাম (এক কলামে থাকে ৭০ জন জওয়ান, যার নেতৃত্বে থাকেন এক বা দুইজন অফিসার) সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এলাকায় টহল দিচ্ছে। তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড় ও জোড়হাট জেলাতেও টহল দিচ্ছে সেনারা।

আসামের বৃহত্তম শহর ও বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল গুয়াহাটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। বহু জায়গায় বন্ধ করে ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলির বাসভবন লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করে। মূলত এরপরই জোরদার করা হয় ডিব্রুগড়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লক্ষ্মীনগর এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পাথর নিক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা দুলিয়াজনে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়। বিক্ষোভকারীরা যেভাবে রাস্তায় টায়ার আর গাছপালা ফেলে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে দাবানলের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে।

ভারতের বিজেপি সরকার বলছে, এই নাগরিকত্ব বিল পাসের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত অমুসলিমদের আশ্রয়স্থল হবে ভারত। তবে সমালোচকদের মতে, দেশটির মুসলমানদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতেই এ বিল আনা হয়েছে। বিলটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বিতর্কিত ওই বিলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে ভারতে গিয়ে বসবাসরত হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটিকে মুসলিমদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ভারতজুড়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই লোকসভায় পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিল উত্থাপন করলে এর পক্ষে ভোট পড়ে ৩৩৪টি। আর বিপক্ষে পড়ে ১০৬টি।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত বিলটি অনুমোদন পেয়েছিল ভারতীয় মন্ত্রিসভায়।

বিলটি ঘিরে ইতোমধ্যেই উত্তপ্ত দেশের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো। এই বিলের ফলে বহুসংখ্যক অবৈধ বসবাসকারী নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে রাজ্যগুলো।

এছাড়া সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বিলটি পাস হওয়ার কারণে পাল্টে যাবে দেশের জনবিন্যাসের ধরন। কমে যাবে কাজের সুযোগ। একইসঙ্গে হ্রাস পাবে নিজস্ব সংস্কৃতিও।

সূত্র: এনডিটিভি

//এল//
বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - janoterkontho@gmail.com or মতিঝিল অফিসঃ খান ম্যানশন, ১০৭ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

আপনার মতামত লিখুন :