ওমরা করার নিয়ম ও বাংলায় তাওয়াফ এর দোয়া সমুহ

সংবাদদাতা
সংবাদদাতা
প্রকাশিত: 0৩:৩১, সেপ্টেম্বর ৩0 ২0১৮ |
Print
ফাইল ছবি

লাব্বাইকাল্লাহুম্মা ….
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ওয়াসসালাতু ওয়াসালামু আলা রাসুলিহিল কারিম, আম্মা বায়াদ ফাউজু বিল্লাহিমিনাশ শায়তানির রাজিম বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
পেয়ারা ইসলামী ভাই ও বোনেরা আজ আমি ওমরা আদায় করার পদ্ধতি বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাল্লাহ।
ওমরাহ এমন একটি এবাদত যা আল্লাহ তায়ালা সুন্নাত সাব্যস্থ করেছেন। যদি আমরা ওমরাহ আদায় করি তাহলে এর ফলে অনেক সাওয়াব ও ফযিলত অর্জন করতে পারব। আর কেহ যদি ইচ্ছাকৃত ওমরাহ না করে তাহলে তাতে গুনাহ হবে না। কারন এটা একটা সুন্নাত এবাদত, তবে তাতে সে অবশ্যই ফযিলত থেকে বঞ্চিত হবে। সুতরাং যারই তৌফিক হয় সে যেন অবশ্যই বেশী বেশী ওমরা করে। কেননা নবীয়ে করিম (দঃ) এরশাদ করেন- হজ্ব ও ওমরাহ মানুষের গুনাহ সমুহকে এমনভাবে দুরিভুত করে যেমন ভাট্টি সোনা চান্দি ও লোহার ময়লা দুর করে দেয়।
আর রমজান মাসে ওমরা করার ব্যাপারে রাসুল (দঃ) এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি রমজান মাসে ওমরা করল সে যেন আমার সাথে হজ্ব করল। 
সে জন্য যথাসম্ভব রমজান মাসে ওমরাহ করার সৌভাগ্য অর্জন করাটাই উত্তম। এর ফলে নবী করিম (দঃ) এর সাথে হজ্ব করার ফযীলত অর্জিত হবে।
যখন কোন মানুষ কোন এবাদত করার ইচ্ছা করে তখন তার উপর জরুরী সে এবাদত এর বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা । যদি সঠিক জ্ঞান না থাকে তাহলে অনেক ধরনের ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং সাওয়াব এর পরিবর্তে গুনাহগার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওমরাহও এমন একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও ফযিলতপুর্ন এবাদত তাই এ এবাদত করার পূর্বে তার সম্পর্কে জরুরী জ্ঞান অর্জন করে নেয়া জরুরী।
এখন আমি ওমরাহ এর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় জরুরী মাসায়ালা মাসায়েল ইনশাল্লাহ বর্ণনা করব। সুতরাং যারা ওমরাহ করার নিয়ত করেছেন বিশেষ করে তারা মনযোগ সহকারে শুনবেন আর যারা এখন ওমরাহ করছেন না তারাও শুনবেন যেন পরবর্তীতে কোন সময় ওমরাহ করার সময় আপনাদের কাজে আসে।
যখন মানুষ ওমরাহ করার ইচ্ছা করে তখন তার কিছু জরুরী জিনিষপত্র দরকার হয়। 
পুরুষ যারা তারা এহরামের কাপড় ২ জোড়া নিবেন। যদি এক জোড়া নেন তাহলে নাপাক কিংবা ময়লা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ২ জোড়া নেয়া উত্তম। 
জামা /পাঞ্জাবী, পায়জামা প্যান্ট, লুঙ্গি, গেঞ্জি, টুপি প্রয়োজনমত। 
তাওয়াফের সময় জুতা/স্যান্ডেল রাখার জন্য একটি কাপড়ের ব্যাগ এবং কাঁধে ঝুলিয়ে রাখার ব্যাগ ১টি (পানির বোতল, প্রয়োজনীয় পুস্তকাদি, জায়নামায, ছাতা (সব সময় নিজের কাছেরাখার জন্য)
মেসওয়াক, ব্রাশ, পেস্ট, টয়লেট পেপার, আয়না, চিরুনী, তেল, সাবান, ভেসলিন, ফেসক্রীম, লিপজেল, খিলাল, কটনবার, নেইল কাটার, সেফটি রেজার ও ব্লে¬ড, ছোটকাঁচি, ছুরি, সুঁই-সুতা, কাপড় টাঙ্গানোর জন্য রশি ইত্যাদি প্রয়োজন মত ৷ 
খাবার প্লে¬ট, গ্ল¬স, বাটি, চামচ একটি করে৷
 
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনসহ নিয়মিত সেবনের প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, ব্যাথা, পেটের অসুখ, সর্দি-কাশি, জ্বর, ইত্যাদির ঔষধ, খাবার স্যালাইন প্রয়োজন মত৷ 

চাকাওয়ালা ব্যাগ/সুটকেস ১টি, হ্যান্ড ব্যাগ ১টি , ব্যাগ বা সুটকেস অবশ্যই চাকা ওয়ালা হতে হবে ৷ তা না হলে মালামাল পরিবহনে অসুবিধা হয়৷ ব্যাগে ইংরেজী ও আরবীতে নিজের নাম-ঠিকানা, পাসপোর্ট নাম্বার লিখে নিতে হবে৷ 

মহিলাদের ইহরামের জন্য সালোয়ার-কামিজ, বোরকা, হাত ও পা মোজা, ইহরামের জন্য পরিধেয় সালোয়ার-কামিজ ব্যাতীত ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সালোয়ার, কামিজ, ওড়না ও স্যান্ডেল সঙ্গে নিবে৷

কলম, ডায়রী। 
একটা বেল্ট যা দ্বারা এহরাম এর কাপড় সামলানো হয় কিন্তু বেল্টটা টাকা পয়সা হেফাজতের নিয়তে বাঁধতে হবে, হানাফি মাযহাব মতে এহরাম এর কাপড় সামলানোর নিয়তে কিছু বাঁধা মাকরুহ। তাই বেল্ট টাকা-পয়সা হেফাজতের নিয়তে বাঁধলে আর মাকরুহ হবে না। এহরাম এর হালতে পুরুষদের জন্য নিজের পায়ের পিট ঢেকে রাখা নিষেধ। সুতরাং এমন জুতা পড়া যাতে পায়ের পিট ঢেকে যায় তা ভুল হবে। সুতরাং ২ জোড়া ২ ফিতা ওয়ালা হাওয়ায় চপ্পল নিয়ে নিবেন যাতে পায়ের পিট ঢাকবে না। একটা ওমরাহ করার পদ্ধতির বই সাথে রাখবেন। এছাড়া কিছু নাতে রাসুল এর কেসেট, কোরআন তেলাওয়াত এর ক্যাসেট কিংবা মোবাইলে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। যাতে পথে শুনতে পারেন। এছাড়া সুরমা, খুশব ছাড়া সাবান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিষ এসব কিছু প্রথমে আপনার ব্যাগে নিয়ে নিবেন। প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র না নিয়ে গেলে সেখানে গিয়ে অনেক সময় কষ্ঠে পড়তে হয়। 
এছাড়া যারা পুরুষ তারা ঘর থেকে বের হওয়ার আগে মাথা মুন্ডিয়ে নেয়া উত্তম, এহরাম এর আগেই মাথা মুন্ডানো থাকলে এর দ্বারা ফয়দা হল এহরাম এর হালতে চুল পড়ার ফলে যে সদকা ও জরিমানা হয় তা থেকে বাঁচা যায়। যদি এহরাম এর হালতে চুল থাকলে মাথা মাসেহ করার সময় কিংবা এমনিতেই অনেক সময় চুল ঝরে পড়ে যার ফলে সদকা লাজেম হয়ে পড়ে। আর এ কাফফারা থেকে বাঁচার জন্য যারা পুরুষ  তাদের জন্য উত্তম হল তারা ঘর থেকেই মাথা মুন্ডিয়ে নিবে।
আর যারা পুরুষ তারা যদি ঘর থেকেই এহরাম বাঁধতে চাই তাতে কোন সমস্যা নাই কিন্তু আপনি ঘর থেকে ওমরাহ এর নিয়ত করবেন না। নিয়ত কোথায় গিয়ে করবেন তা পরে ইনশাল্লাহ বলব।
আপনার ঘরের সদস্য আত্মীয় স্বজনগনের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের থেকে মাফ চেয়ে নিন। আর কেহ আপনাকে কষ্ট দিলে তাকেও মাফ করে দিন। সকল থেকে ভালভাবে বিদায় নিয়ে এয়ারপোর্ট এর দিকে রওয়ানা হয়ে যাবেন।
অনেকে প্রথমে মক্কা মুকাররামা যায় তারপর মদীনায় যায়। আর অনেকের ফ্লাইট প্রথমে মদীনায় যায় তারপর সেখান থেকে সে মক্কায় আসে। এ দু অবস্থায় এহরাম এর পার্থক্য রয়েছে। যারা প্রথমে মদীনায় যাবেন তারা এহরাম বাঁধবেন না। কেননা প্রথমে আপনি মদীনায় যাবেন সেখানে যেয়ারত করবেন কয়েকদিন থাকবেন এরপর যখন আপনি মক্কায় রওয়ানা দিবেন তখন আপনার এহরাম বাঁধতে হবে। আর যারা মক্কায় যাবে ওমরাহ করার জন্য তারা একটা যায়গায় গিয়ে এহরাম বাঁধতে হবে যাকে মিকাত বলা হয়। আর এ মিকাত এহরাম ছাড়া অতিক্রম করা হারাম। সুতরাং যারা মদিনা থেকে মক্কায় যাবে তারা মিকাত এ পৌছবে তার নাম হল জুলহোলায়ফা কিংবা আবইয়ারে আলী নামে প্রসিদ্ধ। সুতরাং যারা আগে মদীনা মনোয়ারায় যেতে চায় তারা নরমাল কাপড় পরিধান করে যাবে। আগে মদীনায় হাজেরী দিবেন যেয়ারত করবেন। যে কদিন থাকা দরকার থাকবেন। এরপর যখন ওমরাহ করার জন্য মক্কায় রওয়ানা দিবে পথিমধ্যে আবিয়ারে আলী নামক স্থানে যে মিকাত পাবে সেখানে এহরাম বেঁধে ওমরাহ এর নিয়ত করবেন।
মীকাত থেকে ওমরাহ বা হজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধা সুন্নত৷ মীকাত আসার পূর্বে ইহরাম বাঁধা সুন্নতের খেলাফ৷ তবে যেহেতু বাংলাদেশ থেকে হজ্জে যাওয়ার সময় বিমানে থাকা অবস্থাতেই মীকাত এসে যায় এবং বিমানে কর্তব্যরত ব্যক্তিরা হাজীদেরকে এব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দিলেও অনেক সময় অসাবধানতার কারণে তারা ইহরাম বাঁধতে ভূলে যায়৷ তাই বিমানে আরোহনের পূর্বেই সুবিধা মত জায়গায় হজ্জ বা ওমরার নিয়তে ইহরাম বেঁধে নিবে৷ 
সুতরাং যারা মক্কায় সরাসরি যাবে তারা প্রথমে এয়ারপোর্টে পৌঁছে যাবেন। যদি ঘর থেকে গোসল করে যান তাহলে ঠিক আছে। অন্যথায় এয়ারপেোর্টে গোসল এর ব্যবস্থা আছে গোসল করে এরপর শরীরে ভালভাবে খুশব মাখবেন। এহরামের কাপড়েও খুশব আতর মাখাবেন। আর মহিলারা ঘর থেকেই গোসল করে বের হবেন আর মহিলাদের জন্য আলাদা কোন এহরামের কাপড় নির্দিষ্ট থাকে না। এ ব্যাপারে আমি পরে বলব।
সুতরাং খুশব মাখানোর পর আপনি এহরামের কাপড় পড়ে নিবেন তবে এখন আপনি ওমরাহ এর নিয়ত করবেন না। কেননা যদি আপনি দেশের এয়ারপোর্টে এহরাম এর কাপড় পরিধানের পর পরই ওমরার নিয়ত করে নেন তাহলে এহরামের যা যা পা-বন্দি আছে তা আপনার উপর আবশ্যক হয়ে যাবে। যেমন এহরাম অবস্থায় কেহ যদি মুছাফাহা করে আর তার হাত থেকে খুশব লেগে যায় তাহলে এর ফলে দম দেয়া আবশ্যক হয়ে যাবে। তাই এয়ারপোর্টে শুধু এহরাম এর কাপড় পরিধান করবেন কিন্তু নিয়ত করবেন না। যখন উড়োজাহাজে বসবেন তখন নিয়ত করবেন তার পদ্ধতি ইনশাল্লাহ আমি পেশ করব।
ভিডিও
প্রথমত যারা মহিলা তারা কি ধরনের কাপড় দিয়ে শরীর ঢাকবে তা দেখে নিন। এমনেতো মহিলাদের জন্য আলাদা করে কোন এহরামের কাপড় নাই, তবে মহিলা তার চুল ও সতর সমুহ ভালভাবে ঢেকে নিতে হবে। কেননা সতর খোলা থাকলে দম/ জরিমানা জরুরী হয়ে যাবে। দেখুন মহিলাদের জন্য কোন খাস এহরামের কাপড় নাই সাধারন ঘরোয়া পোষাকই পরিধান করে এহরাম এর নিয়ত করবেন। বোরকা পরিধান করে নিবেন যেন ভালভাবে সতরসমুহ ঢেকে যায়। যেহেতু মহিলাদের চুল ও সতর তাই এমন স্কার্ফ পরিধান করবেন যাতে কান সহ সব চুল ভালভাবে ঢেকে যায়। শুধুমাত্র সামনের চেহেরা খোলা থাকবে। মহিলাদের জন্য এহরামের হালতে চেহারা ঢাকা নিষেধ। এমনভাবে স্কাফ পরিধান করবেন যেন চুলের কোন অংশ এবং কান যেন একেবারে দেখা না যায়। কোন ধরনের পিন দ্বারা স্কার্ফকে আটকে রাখতে চাইলে তা করতে পারবেন। এতক্ষন আপনারা মহিলাদের এহরাম এর তরিকা দেখলেন।
এবার পুরুষদের এহরাম বাঁধার তরিকা দেখুন।  আপনাদের বলেছি যে পুরুষদের এহরাম ২ টা কাপড় দ্বারা হয়। একটাকে তেহবন্দ বলা হয় এবং ২য়টাকে চাদর বলা হয়। এখন দেখুন পুরুষ কিভাবে তার এহরাম বাঁধবে। আপনি এটাকে আটকানোর জন্য বেল্ট বাঁধতে পারেন। আমি আগেও বলেছি যখন আমরা বেল্ট বাঁধব তখন এহরাম আটকানোর নিয়তে বাঁধব না বরং পয়সা হেফাজত এর নিয়তে বেল্ট বাঁধবে। পুরুষের জন্য নাভী সতর তাই এমন ভাবে বাঁধবে যেন নাভী দেখা না যায়। অনেকে েএহরাম নাভীর নিচে বাঁধে এর ফলে গুনাহগার হবে। এবার চাদর খানা হাতে নিবেন এবং বাম দিকের অংশ কম রাখবেন আর ডান দিকে বেশী রাখবেন আর ডান দিকের অংশ বাম কাঁধের উপর রাখবেন। এটাই হল এহরাম বাঁধার নিয়ম। এভাবেই এহরাম বাঁধতে হবে।
কেহ কেহ ভুল পদ্ধতিতে এহরাম বাঁধে তাকে ইদতিবা বলা হয়। আর তা হল ডান কাঁধ খোলা রেখে এহরাম বাঁধা। এটা শুধু তখন করতে হবে যখন আপনি তাওয়াফ করবেন। এর আগে এভাবে ডান কাঁধ খোলা রাখা সুন্নতের খেলাফ। সুতরাং আপনি যদি এয়ারপোর্টে এহরাম বাঁধেন তাহলে ২ কাঁধ ঢেকে রাখবেন। যখন তাওয়াফ করবেন তখন শুধু ইদতিবা করবেন অর্থাৎ ডান কাঁধ খোলা রাখবেন।
এতক্ষন আপনারা এহরাম বাঁধার তরিকা দেখেছেন। মহিলা পুরুষ উভয়ে এহরাম বাঁধার পর নিয়ত করবে না বরং এহরাম এর ২ রাকাত নফল আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফেরুন ২য় রাকাতে সুরা এখলাছ। তবে দেখবেন যেন মকরুহ ওযাক্ত না হয়। যেমন সুর্য উঠার সময় ডুবার সময় এবং যাওয়াল এর সময় নামাজ পড়া নিষেধ। এবং একইভাবে যদি আসরের নামায আদায় করে ফেলেন তখন ও নফল আদায় করতে পারবেন না। এছাড়া অন্য সময় হলে আপনি এহরাম এর জন্য ২ রাকাত নফল পড়তে পারবেন। নফল আদায় করে নিয়ত করবেন না বরং সুন্দরভাবে ফ্লাইটে উঠে পরুন। মনে রাখবেন এহরাম পড়ে নেয়ার পর কোন ধরনের খুশব ব্যবহার করা নিষেধ। তেমনি ভাবে পুরুষদের জন্য মাথা ঢাকাও নিষেধ। এখান থেকে আপনি ২ ফিতা বিশিষ্ট হাওয়াই চপ্পল ব্যবহার করবেন কেননা যদি আপনি এমন জুতা পরিধান করেন যাতে আপনার পায়ের উপরের পিঠ ঢেকে যায় তাতে আপনার উপর জরিমানা আবশ্যক হবে। এখন যখন আপনার ফ্লাইট উড়তে আরম্ভ করে তখন আপনি ওমরাহ এর নিয়ত করবেন।
(আল্লাহুম্মাহুম্ম ইন্নী উরিদুল ওমরাতা ফায়াচ্ছিরহা লি ওয়াতাকাব্বালহা মিন্নি ওয়াআইন্নি আলাইহা ওয়াবারিক লি ফিহা নাওয়াইতুল ওমরাতা ওয়া আহরামতু বিহা লিল্লাহি তায়ালা)
অর্থাৎ হে আল্লাহ আমি ওমরাহর নিয়ত করছি, আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং তা আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নাও এবং সহীহ শুদ্ধভাবে আদায় করার জন্য সাহায্য কর। এতে বরকত দান কর। আমি ওমরাহ করার নিয়ত করেছি এবং আল্লাহর জন্য তার এহরাম বেধেছি।
নিয়ত ‍হল ‍মুলত অন্তরের ইচ্ছা তবে আরবী নিয়ত মুখে উচ্চারন করাটা উত্তম তবে আবশ্যক নয়। শুধু অন্তরে এ নিয়ত করে নিন যে হে আল্লাহ আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য ওমরাহর এহরাম বাঁধছি অথবা ওমরাহর নিয়ত করছি। 
এতে করে আপনার এহরাম শুরু হয়ে গেল। এহরাম মুলত একটা অবস্থার নাম যে অবস্থায় মানুষের উপর কিছু নিয়ম কানুন অনুসর করা আবশ্যক হয়ে যায়। কিন্তু আমরা এহরাম মানে সিলাই বিহিন কাপড়কে বুঝে থাকি। মুলত এটা একটা অবস্থার নাম। যখনই আপনি ওমরার নিয়ত করে নিবেন তখন থেকেই সে অবস্থা শুরু হয়ে যাবে। এবং অনেক নিয়ম কানুন তখন থেকে আপনাকে পালন করতে হবে।
আপনার এহরাম বেঁধেছেন এবং ওমরাহ র নিয়ত ও করেছেন এখন একবার লাব্বাইক বলা আবশ্যক। লাব্বাইক হল-
(লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক আলা শারিকালাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নেমাতা লাকাওয়াল মুলক লা শারিকালাক)
অর্থাৎ- আমি উপস্থিত হে আল্লাহ আমি উপস্থিত আমি হাজির তোমার কোন শরীক নাই, আমি হাজির। সমস্ত সৌন্দয্য ও নেয়ামত ও রাজত্বি তোমারই জন্য তোমার কোন অংশীদার নাই।
এটা একবার বলা ওয়াজিব এবং ৩ বার বলা  উত্তম। পুরুষগন উচ্চস্বরে এবং মহিলারা এমন আওয়াজে বলবে যেন শুধু নিজের কানে শুনতে পায়।
এর অনেক ফযিলত- নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন যখন হাজী লাব্বায়েক বলে তখন তাকে সু-সংবাদ শুনানো হয়, সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করল এয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ) কি সু-সংবাদ? জান্নাতের সু-সংবাদ? নবীজি ফরমালেন হা তাকে জান্নাতের সু-সংবাদ দেয়া হয়। 
এবার আপনি আপনার সফর করতে থাকেবন পথিমধ্যে মিকাত আসবে, কিন্তু আপনার তা জানা থাকবে না, আপনি সে মিকাত এয়ালমলম অতিক্রম করে জেদ্দা এয়ারপোর্ট পৌঁছে যাবেন। যেহেতু আপনি আগেই এহরাম ও নিয়ত করে ফেলেছেন সেহেতু আর সমস্যা নাই।
জেদ্দা এয়ারপোর্টে প্রয়োজনীয় কাজ সেড়ে মক্কা মুকারামায় রওয়ানা হবেন। মক্কা মুকারামা ঐ সম্মানিত শহর যাতে নবী করিম (দঃ) তাঁর জীবনের শুরু ৫৩ বছর কাটিয়েছেন। ৪০ বছরে  নবুওয়াত পাওয়ার পর ১৩ বছর ছিলেন এরপর মদিনা মনোয়ারায় হিজরত করে ১০ বছর জাহেরী ভাবে মদীনায় ছিলেন। সুতরাং এমন সম্মানিত শহরে যথাসম্ভব আদব ও এহতেরাম এর সাথে আপনার চলাচল করা জরুরী। এবং মনে মনে নিজেকে পলাতক গোলাম খেয়াল করবেন যে নিজের মালিক এর নিকট উপস্থিত হয়েছে। নিজের সকল গুনাহসমুহের জন্য লজ্জিত হবেন, আল্লাহ তায়ালার বারগাহে ক্ষমা চাইবেন। এতে আপনার অন্তর নরম হয়ে যাবে এবং চোখের পানি যেন বের হয় সে রকম হালত করবেন। মক্কা মুকারারামায় প্রবেশ করার পর চেষ্টা করবেন যেন আপনার একটা ‍মুহুর্তও বৃথা নষ্ট না হয়। কেননা নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন মক্কায় একটা নেকি ১লাখ নেকির সমান। সুতরাং তাতে আপনি যতগুলি নেক আমল করবেন প্রতিটার বদলা ১ লাখ নেকীর ছাওয়াব মিলবে। তাই সদা আল্লাহর জিকির ও নবী করিম (দঃ) এর দরুদ পাঠে রত থাকবেন। এবং এহরাম অবস্থায় বেশী বেশী লাব্বাইক পাঠ করা আল্লাহ বেশী পছন্দ করেন। 
এবার আপনি আপনার রুমে গিয়ে আপনার মালামাল রেখে যদি গোসল করতে চান তাহলে গোসল করে নিতে পারেন, এহরাম অবস্থায় গোসল করা নিষেধ নয়। এটা ভুল ধারনা যে যদি এহরাম এর চাদর খুলে ফেলে তাহলে এহরাম থেকে বাহির হয়ে যাবে। এহরাম মুলত একটা বিশেষ অবস্থার নাম। কাপড় পরিধানের নাম নয়। সুতরাং প্রয়োজন এর সময় এহরাম এর চাদর খুলে ফেললে তাতে এহরাম নষ্ট হবে না। ফ্রেশ হওয়ার পর আপনি চাইলে কিছুক্ষন আরাম করতে পারেন। সম্পূর্ণ রুপে বিশ্রাম করে ফ্রেশ হওয়ার পর এবার আপনি মসজিদে হারাম এর দিকে যাবেন ওমরাহ করার জন্য। মনটাকে একেবারে নরম করে নিবেন। নিজেকে অপরাধী ও গুনাহগার ভাবতে থাকুন মনে করবেন আপনার বিগত জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমাকরানোর জন্য মহান রবের বারগাহে হাজির হচ্ছেন। অনেকের ভাগ্যে এ সুযোগ জীবনে শুধু একবারই আসে। তাই আল্লাহর দিকে যত বেশী মনযোগ হবে তত বেশী উত্তম। 
যখন মসজিদে হারাম প্রবেশ করবেন সাথে একটা থলে রাখবেন সে থলেতে আপনার চপ্পল রেখে তা বাহিরে জুতা রাখার স্থানে রাখতে পারবেন। অনেকে জুতা হারিয়ে ফেলে পরে অন্যের জুতা নিয়ে চলে যায়। এটা জায়েজ নয়। আপনি এ ধরনের ভুল করবেন না।
আপনি বাবুস ছালাম নামক দরজা দিয়ে মসজিদে হারামে প্রবেশ করবেন। ডান পা দিয়ে “বিসমিল্লাহি, ওয়াস সালাতু  ওয়াসালামু আলা রাসুলিল্লাহি, আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা” পাঠ করে মসজিদে প্রবেশ করবেন। নবী করিম (দঃ) এর সুন্নাত মোতাবেক নফল এতেকাফের নিয়ত করে মসজিদে প্রবেশ করবেন, যেমন- আমি সুন্নাত এতেকাফের নিয়ত করতেছি এমন নিয়ত করে নিন। যেহেতু মক্কায় ১টা নেকী ১ লাখ নেকির বরাবর তাই আপনি যখন নফল এতেকাফের নিয়ত করে নিবেন তাহলে আপনার ১ লাখ নফল এতেকাফের সাওয়াব অর্জিত হব। এরপর খুবই আদব ও এহতেরাম এর সাথে কাবার দিকে অগ্রসর হবেন, যখন মুল কাবার সামনে গিয়ে উপস্থিত হবেন যখনই কাবার উপর দৃষ্টি পরবে সাথে সাথে দোয়া করুন, নবী করিম (দঃ) এরশাদ করেন কাবাতুল্লাহর উপর ‍দৃষ্টিপাত করার সময় যে দোয়া করা হয় তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।
এবার তাওয়াফ আরম্ব করবেন, পুরুষ ইদতিবা করবেন অর্থাৎ ডান কাঁধের উপরের চাদর বগলের নিচে দিয়ে এনে বাম কাঁধের উপর রাখবেন আর ডান কাঁধ খোলা রাখবেন। এটাকে ইদতিবা বলে। আর তাওয়াফ ছাড়া অন্য সময় ইদতিবা করা যাবে না শুধুমাত্র তাওয়াফের সময়ই ইদতিবা করা সুন্নাত। অনেক হাজীকে আপনি দেখবেন যে যারা সারাক্ষন ইদতিবা করে রাখে। এবং এমন অবস্থায় তারা নামাজ ও আদায় করে। মনে রাখবেন ইদতিবা অবস্থায় নামাজ আদায় করলে সে নামাজ মাকরুহে তাহরীমী হবে, তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হবে। সুতরাং শুধুমাত্র তাওয়াফের সময় আপনি ডান কাঁধ খোলা রাখবেন।
এখন আপনি কাবা ঘরের যে কোনায় হাজরে আসওয়াদ আছে সে কোনায় গিয়ে দেখবেন হাজরে আসওয়াদ থেকে নিয়ে পিছনে মসজিদের দেওয়াল পর্যন্ত নিচে ফ্লোরে মার্বেল পাথরের পাট্টি লাগানো আছে, ফ্লোরে এই পাট্টি থেকে আপনি হাজরে আসওয়াদ এর স্থান নির্ধারন করতে পারবেন অতি সহজে। এছাড়া দেখবেন এই পাট্টি যেখানে শেষ হয়েছে সে সোজা দেওয়ালে সবুজ রং এর টিউব লাইট দেখবেন। এ লাইট দ্বারা আপনি তাওয়াফ করার সময় বুঝতে পারবেন যে হাজরে আসওয়াদ এর কোনা আসতেছে।
এবার আপনি হাজরে আসওয়াদ এর সোজা যে মার্বেল পাথরের পাট্টি লাগানো আছে সেখানে গিয়ে সে পাট্টির উল্টা দিকে দাঁড়াবেন, ঐ পাট্টির উপর দাঁড়াবেন না। যেখানে দাঁড়ালে হাজরে আসওয়াদ আপনার ডান দিকে থাকবে। এখন আপনি হাত উঠানো ছাড়া ওমরাহর নিয়ত করবেন। (আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারামি ফায়াসসিরহুলি ওয়াতাকাব্বালহু মিন্নি) অর্থাত্ হে আল্লাহ আমি ওমরাহ পালনের নিয়ত করছি৷ তা আমার জন্য সহজ করে দাও এবং কবুল কর। নিয়ত করার পর এবার আপনি সে পাট্টির উপর গিয়ে দাঁড়িয়ে যান। যখন আপনি উটার উপর দাঁড়াবেন হাজরে আসওয়াদ আপনার সামনে হবে। আর সবুজ লাইট আপনার ঠিক পিছনে হবে। নামাজের তাকবিরের সময় যেভাবে হাত উঠাতে হয় সেভাবে হাত উঠায়ে পড়বেন “বিসমিল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার ওয়াস্‌সালাতু ওয়াস্‌সলামু আলা রাসূলিল্লাহ” এটা পড়ার পর হাত নিচে করে নিবেন।
এরপর সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদকে চুমা দিবেন। হাজরে আসওয়াদকে চুমু দেয়া সুন্নাতে মুস্তাহাব্বাহ। নবী করিম (দঃ)  এ জান্নাতি পাথর হাজরে আসওয়াদকে চুমা দিয়েছেন। চুমু দেয়ার নিয়ম হল হাজারে আসওয়াদের উপর হাত দু’টু এমনভাবে রাখবে যেমনভাবে সিজ্‌দার সময় রাখা হয়৷ এরপর আদবের সাথে উক্ত পাথরে চুমু দিবেন ৩ বার চুমু খান তবে যেন আওয়াজ না হয়৷  যদি হাজরে আসওয়াদ এর নিকট প্রচন্ড ভির হয় এবং সে ভিরে যাওয়া দুস্কর হয় এবং মহিলারা যদি দেখে সেখানে পুরুষদের ভির বেশী তাহলে সে অবস্থায় হাজরে আসওয়াদকে চুমা দেয়া আর সুন্নাত থাকবে না। এ সকল অবস্থায় আপনি দুর থেকেই এস্তেলাম করবেন। এস্তেলাম হল হাজরে আসওয়াদকে সামনে রেখে হাতে  ইশারা করে সে হাতে চুমু দেয়া ।  যদি হাজরে আসওয়াদ কে চুমু দেয়া সম্ভব হয় তাহলে চুমু দিবেন আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে হাতে ইশারা করে হাতে চুমু দিবেন, এটাকে এস্তেলাম বলে। 
মনে রাখবেন আপনাকে ৭ চক্কর দিতে হবে কিন্তু হাজরে আসওয়াদকে চুমু বা এস্তেলাম ৮ বার হবে। হাজরে আসওয়াদ থেকে সামান্য ডান দিকে সরে গিয়ে যখন দেখবেন হাজরে আসওয়াদ আর আপনার সোজসোজি রইল না তখন সাথে সাথে আপনার দিক পরিবর্তন করে নিবেন ফলে কাবাতুল্লাহ আপনার বাম দিকে হয়ে যাবে।  মনে রাখবেন তাওয়াফ হবে ঘরির কাঁটার বিপরিত দিকে।যারা পুরুষ তাদের জন্য সুন্নাত হল প্রথম ৩ চক্করে রমল করবেন। রমল মানে হল সাধারন নরমাল অবস্থা থেকে একটু জোরে হেলে দুলে চলা। কাবাতুল্লাহর যত নিকেটে থেকে তাওয়াফ করতে পারবেন ততেই আফযল। তবে যদি বেশী ভীর হয় আর রমল করতে না পারেন তাহলে একটু দুরে থেকে যেখানে ভীর নাই সেখানে রমল করে নিবেন। তবে কেহ যদি ভুলে বা ইচ্ছায় রমল ছেড়ে দেয় তাহলে কোন জরিমানা বা দম দিতে হবে না। কারন এটা সুন্নাত।

মনে রাখবেন যে কোনায় হাজরে আসওয়াদ আছে সেটাকে রুকনে আসওয়াদ বলে। এর পরের যে কোনা তাকে রুকনে ইরাকি বলা হয়। এরপর ৩য় কোনাকে রুকনে শামি বলে। আর চতুথ কোনাকে রুকনে এয়ামানি বলা হয়। তাওয়াফ করার সময় কিছু দোয়া আছে চেষ্টা করবেন এ দোয়া রুকনে এয়ামানি বরাবর পৌছাঁর আগেই শেষ করবেন। তবে কাহারো নিকট যদি দোয়া মুখস্ত না থাকে কিংবা দোয়ার বই না থাকে তাহলে সে এর পরিবর্তে দরুদে পাক পাঠ করবে। আর যদি কোন বই থাকে তা থেকে দেখে দেখেও তাওয়াফকালীন দোয়াসমুহ পড়তে পারেন। তবে এ দোয়া সমুহ উচ্চস্বরে পড়া উচিত নয়। বরং এমন আওয়াজে পড়েন যাতে আপনার নিজ কানে শুনা যায়। 
১ম চক্কর তাওয়াফের দোয়া-
তাওয়াফের সময় ১ম চক্করের দোয়ার মানে হল- আল্লাহ তায়ালা পাক পবিত্র, সকল প্রসংশা তার জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আল্লাহ মহান, গুনাহ থেকে বাঁচা ও নেকী করার তৌফিক আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়।যিনি মহান সম্মানিত, রহমত নাযিল হউক রাসুলুল্লাহর উপর, হে আল্লাহ তোমার প্রতি ঈমান এনে তোমার কিতাবের সত্যতা স্বীকার করে, তোমার সাথে কৃত ওয়াদা পুরন করতে, তোমার নবীর সুন্নতের অনুসরনে তাওয়াফ আরম্ভ করেছি। হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট গুনাহ সমুহ থেকে  ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বিপদ-আপদ থেকে সদা হেফাজতের, দ্বীন ও দুনিয়া এবং আখিরাতে এবং জান্নাত হাছিলে সফলতার এবং জাহান্নামের থেকে মুক্তির দরখাস্ত করছি।

এ তাওয়াফের দোয়া আপনি রোকনে এয়ামনিীতে পৌছার আগে আগে শেষ করে নিবেন, এখন আপনি রোকনে এয়ামানি থেকে রুকনে আসওয়াদ এর দিকে যাবেন। আর রোকনে এয়ামানী থেকে রুকনে আসওয়াদ পর্যন্ত এ জায়গাটা দোয়া কবুল হওয়ার জায়গা সুতরাং এ জায়গাটুকুতে আপনি চলতে চলতে দোয়া নিজের জন্য ও তামাম মুসলমানের জন্য দোয়া করবেন এবং দরুদ শরীফ পাঠ করে কুরআনের এ আয়াত পাঠ করবেন (রাব্বানা আতেনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়াকেনা আজাবান নার)
মনে রাখবেন তাওয়াফ কালীন আপনি কাবাতুল্লাহর দিকে ফিরবেন না, আপনার সিনা যেন কাবার দিকে না হয়। তবে যদি কাবা ঘরের খুব কাছ দিয়ে তাওয়াফ করেন তখন হাত বাড়িয়ে রুকনে এয়ামানিকে ছুয়ে দিতে পারেন বরকতের জন্য। কিন্তু আপনি যদি দুরে থাকেন তখন সে দিকে ফিরে ইশারা করার প্রয়োজন নাই।
যখন আপনি রুকনে আসওয়াদ এর দিকে অগ্রসর হবেন দেখবেন দেওয়ালে সবুজ রং এর টিউব লাইট আছে। সেখানের বরাবর ফ্লোরে যে পাট্টি আছে তাতে এসে হাজরে আসওয়াদ এর দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে যাবেন, নামাজের তাকবিরের সময় যেভাবে হাত উঠাতে হয় সেভাবে হাত উঠায়ে পড়বেন “বিসমিল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার ওয়াস্‌সালাতু ওয়াস্‌সলামু আলা রাসূলিল্লাহ” এটা পড়ার পর হাত নিচে করে নিবেন। এবং সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদকে চুমু দিবেন অথবা হাতে ইশারা করে হাতে চুমু খাবেন এটাকে এস্তেলাম বলে।  এবং হাজরে আসওয়াদ থেকে সামান্য ডান দিকে সরে গিয়ে যখন দেখবেন হাজরে আসওয়াদ আর আপনার সোজসোজি রইল না তখন সাথে সাথে আপনার দিক পরিবর্তন করে নিবেন ফলে কাবাতুল্লাহ আপনার বাম দিকে হয়ে যাবে। এখন আবার রমল করতে করতে ২য় চক্কর শুরু করবেন।
২য় চক্কর তাওয়াফের দোয়া-
তাওয়াফের ২য় চক্করের দোয়ার বাংলা অনুবাদ- হে আল্লাহ এ ঘর তোমার ঘর, এ হারাম তোমার হারাম, এখানের নিরাপত্তা তোমার নিরাপত্তা, সকল বান্দা তোমারই বান্দা, আমিও তোমারই বান্দা, তোমারই এক বান্দার সন্তান, এ স্থানটা জাহান্নাম থেকে পানাহ চাওয়ার জায়গা, তুমি আমার শরীর ও শরীরের গোস্তকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দাও, হে আল্লাহ আমার জন্য ঈমানকে প্রিয় করে দাও, আমার অন্তরে তার আগ্রহ সৃষ্টি করে দাও,  আমার অন্তরে কুফুরী বদকারী ও নাফরমানিকে অপছন্দনীয় করে দাও, আমাকে হেদায়েতপ্রাপ্তদের মধ্যে গন্য করে নাও। হে আল্লাহ যেদিন তুমি তোমার বান্দাগনকে পুনরুজ্জিবীত করবে সেদিন আমাকে আযাব থেকে রক্ষা করিও, হে আল্লাহ তুমি আমাকে বিনা হিসাবে জান্নাত দান কর।
২য় চক্করের দোয়া রোকনে এয়ামনী পৌছাঁর আগে আগে শেষ করে নিবেন। রোকনে এয়ামানি থেকে রুকনে আসওয়াদ পর্যন্ত আপনার নিজের জন্য সহ সকল মুসলমানের জন্য দোয়া করবেন, এবং দরুদ শরীফ পাঠ করে কুরআনের এ আয়াত পাঠ করবেন (রাব্বানা আতেনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়াকেনা আজাবান নার)
এরপর হাজরে আসওয়াদের দিকে ফিরে পাট্টির উপর দাঁড়াবেন দু হাত কান পর্যন্ত উঠায়ে (“বিসমিল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার ওয়াস্‌সালাতু ওয়াস্‌সলামু আলা রাসূলিল্লাহ”) পড়ে হাত নামিয়ে ফেলবেন এরপর হাজরে আসওয়াদকে চুমু বা এস্তেলাম করবেন। এবার পুনরায় ৩য় চক্কর শুরু করবেন রমল সহকারে।

৩য় চক্কর তাওয়াফের দোয়া- বাকী আমল আগের মত ...
তাওয়াফের ৩য় চক্করের দোয়ার বাংলা অনুবাদ- হে আল্লাহ আমি সন্দেহ, শিরিক, নেফাক, সত্যের বিরোধীতা, খারাপ চরিত্র, খারাপ দৃশ্য, পরিবার, মাল ও সন্তানদের উপর কু প্রভাব থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে প্রভু আমি তোমার সন্তুষ্টি এবং জান্নাত প্রার্থনা করছি। তোমার গজব এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় পার্থনা করছি। হে প্রভু আমি কবরের দুঃখ এবং জীবনে এবং মৃত্যুর সময়কালীন ফিতনা থেকে তোমার আশ্রয় প্রাথনা করছি।
 
এবার পুনরায় ৪র্থ চক্কর শুরু করবেন তবে এখন থেকে পরবর্তী চক্করসমুহে আর রমল বা জোড়ে হেলেদুলে চলা লাগবে না। স্বাভাবিক ভাবে চলে দোয়া পড়তে পড়তে চলবেন।
৪থ চক্কর তাওয়াফের দোয়া- 
তাওয়াফের সময় ৪ নং চক্করের দোয়ার বাংলা অনুবাদ- হে আল্লাহ আমার হায়াত কে বরকতময় এবং আমার চেষ্টাসমুহকে সফলতা দান কর। গুনাহসমুহের ক্ষমার মাধ্যম এবং কবুলযোগ্য নেক আমল এবং ক্ষতিছাড়া তেজারত করে দাও। হে অন্তরযামী, আমাকে গুনাহের অন্ধকার থেকে ছাওয়াবের আলোর দিকে বের করে নাও। হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে তোমার রহমত হাছিলের বিষয়বস্তু এবং তোমার ক্ষমার বিষয়বস্তুসমুহ এবং সমস্ত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে এবং সকল নেক আমলের তওফিক এবং জান্নাতে যাওয়া এবং জাহান্নামের থেকে মুক্তির দরখাস্ত করছি। হে আল্লাহ আমাকে দেওয়া রিযিকসমুহে বরকত দান কর। সকল ক্ষতিসমুহে তোমার দয়ায় আমার জন্য নেয়ামতে পরিবর্তন করে দাও

৫ম চক্কর এর দোয়া-
তাওয়াফে ৫ম চক্করের দোয়ার বাংলা অনুবাদ- হে আল্লাহ আমাকে সে দিন আরশের ছায়ায় জায়গা দিও, যেদিন তোমার আরশের ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবেনা এবং তুমি ছাড়া কেহ বাকী থাকবেনা। নবী করিম (দঃ) এর হাউজে কাউছার থেকে এমন তৃপ্তির সাথে পান করাইও যাতে কখনো আমার পিপাসা না লাগে। হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট সে সকল বিষয়ের ব্যাপারে মঙ্গল কামনা করছি যা তোমার নবী মুহাম্মদ (দঃ) তোমার নিকট  চেয়েছেন। েএবং ঐ সমস্ত বিষয়গুলোর খারাপ পরিনতি থেকে পানাহ চাচ্ছি যা থেকে তোমার নবী পানাহ চেয়েছেন। হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট জান্নাত এবং তার নেয়ামতসমুহের এবং সে সকল কথা কাজ এবং আমলের তৌফিক এর প্রার্থনা করছি যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে। এবং সে সমস্ত কথা কাজ ও আমল থেকে পানাহ চাচ্ছি যা আমাকে দোযখের নিকট করে দিবে।

৬ষ্ঠ চক্করের দোয়া
তাওয়াফের ৬ষ্ঠ চক্করের দোয়ার অনুবাদ- হে আল্লাহ আমার উপর তোমার অনেক হক রয়েছে যা তোমার ও আমার মাঝে রয়েছে যা তোমার ও তোমার সৃষ্টি সমুহের মাঝে রয়েছে এসব হকের মাঝে যা তোমার সাথে রয়েছে তার ভ্রান্তিসমুহ ক্ষমা কর। আর যে সমস্ত হক তোমার সৃষ্টির সাথে তার ক্ষমার ব্যাপারে তুমি জিম্মাদারী নাও। হে আল্লাহ আমাকে হালাল রিযিক দান কর, হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখ, তোমার অনুসরনের তৌফিক দান কর। দয়া করে পরমুখাপেক্ষী হতে বাঁচাও। হে আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমার এ ঘর সম্মানিত ঘর। তুমি করিম তুমি হালিম তুমি আজিম। তুমি ক্ষমা করা পছন্দ কর হে প্রভু আমার ভ্রান্তিসমুহ ক্ষমা করে দাও।

৭ম চক্করের দোয়া
তাওয়াফের সপ্তম চক্করের দোয়ার অনুবাদ- হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট তোমার রহমতের উছিলায় পরিপূর্ণ ঈমান এবং সরল বিশ্বাস, প্রশস্থ রিযিক, বিনয়ী অন্তর, জিকিরকারী জবান, হালাল ও পাক পবিত্র রুজি, সরল তৌবা এবং মৃত্যু পূর্বে তাওবা এবং শান্তিময় মৃত্যু এবং মৃত্যুর পর ক্ষমা ও দয়া এবং হিসাবের সময় ক্ষমা এবং জান্নাত অর্জন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করছি। হে সম্মানিত ক্ষমাদানকারী আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও এবং আমাকে নেককারদের অন্তভূক্ত করে নাও।

৭ম চক্কর পুরা হওয়ার পর হাজরে আসওয়াদের দিকে ফিরে পাট্টির উপর দাঁড়াবেন দু হাত কান পর্যন্ত উঠায়ে (“বিসমিল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার ওয়াস্‌সালাতু ওয়াস্‌সলামু আলা রাসূলিল্লাহ”) পড়ে হাত নামিয়ে ফেলবেন এরপর হাজরে আসওয়াদকে চুমু বা এস্তেলাম করবেন। সুতরাং আপনার তাওয়াফ হল ৭টা আর এস্তেলাম হল ৮বার।
এখন আপনার তাওয়াফ সম্পূর্ণ হল এবার আপনি আপনার চাদর দ্বারা ডান কাঁধ ঢেকে নিন এবং মকামে  ইবরাহিম এর কাছে এসে পাঠ করুন সুরা বাকারার এ আয়াত-(ওয়াত্তাহিজু মিম মাকামে ইবরাহিমা মুছাল্লা) যার অর্থ- তোমরা ইবরাহিম এর দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাজের জায়গা বানাও।

এখন আপনি যদি মকামে ইবরাহিম এর নিকট জায়গা পান তাহলে সেখানে দাঁড়িয়ে ২ রাকাত তাওয়াফের নামাজ আদায় করবেন। তবে যদি নিকটে জায়গা না পান তাহলে মসজিদে হারামের যেখানে জায়গা মিলে সেখানে দাঁড়িয়ে ২ রাকাত নামাজ আদায় করবেন তবে যেন মকরুহ ওয়াক্ত না হয়। প্রথম রাকাত সুরা ফাতেহার সাথে সুরা কাফেরুন এবং ২য় রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে সুরা এখলাছ পড়বেন। এ নামাজ ওয়াজিব যদি কোন সমস্যা না থাকে কিংবা মকরুহ ওয়াক্ত না হয় তাহলে তাওয়াফের পর পরই এ নামাজ আদায় করে নেয়া উত্তম। নতুবা পরে আদায় করে নিবেন। অনেক লোক দেখবেন কাঁদ খোলা রেখেই নামাজ পড়ে এটা মকরুহ। কাঁধ খোলা সে সকল তাওয়াফের সময় রাখতে হয় যে তাওয়াফের পর সায়ী করতে হয়।

মকামে ইবরাহীমে ২ রাকাত নামাজ আদায় করে এ দোয়া পাঠ করবেন, হাদীস শরীফে আছে (আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- যে এ দোয়া করবেন আমি তার গুনাহ মাফ করে দিব, অভাব দুর করে দিব। দোয়া হল-

দোয়া করার পর এবার হজরে আসওয়াদ ও কাবার দরজার মধ্যবর্তী স্থানে এসে লেপ্টে যান এ স্থানটাকে মুলতাজিম বলে, সেখানে আপনি যথাসম্ভব আপনার সিনা, পিট, চেহেরা, হাত লাগান কান্না করেন চোখের পানি ছেড়ে দেন আর নিজের জন্য আর তামাম মুসলমানের জন্য নিজ ভাষায় দোয়া করুন। এটা দোয়া কবুল হওয়ার স্থান।

মুলতাজিমে দোয়া শেষে এবার চলে যাবেন জমজম এর পানি পান করার জন্য। কেবলামুখি হয়ে দাঁড়িয়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠ করে এ পানি পান করতে হয়। এ পানি একদম পেট ভরে পান করবেন। রাসুলুল্লাহ (দঃ) এরশাদ করেন আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য হল মুনাফিকগন জমজমের পানি পেট ভরে পান করে না। এ পানি পানের সময় দোয়া করুন গুনাহ মাফের দোয়া এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করুন। (রাসুল (দঃ) এরশাদ করেন আবে জমজম যে নিয়তে পান করা হয় তা পুরা হয়) কিছু পানি মুখে মাথায় শরীরে মাসেহ করে নিতে পারেন, তবে খেয়াল রাখবেন যেন নিচে না পরে। আর পান করার পর এ দোয়া পাঠ করুন- (আল্লাহুম্মা ইন্নি আসয়ালুকা ইলমান নাফেয়ান ওয়া রিযকান ওয়াসিয়ান ওয়া শিফায়ান মিন  কুল্লি দাঈন) ।

এবার যদি আপনি ফিট থাকেন ক্লান্ত না হন তাহলে সায়ী করার জন্য প্রস্তু হয়ে যান, আর যদি ক্লান্ত হয়ে পড়েন তাহলে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে নিন, এরপর সাফা মারওয়ায় সায়ী করার জন্য প্রথমে হাজরে আসওয়াদ এর সামনে গিয়ে দু হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে পাঠ করুন (“বিসমিল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার ওয়াস্‌সালাতু ওয়াস্‌সলামু আলা রাসূলিল্লাহ”) পড়ে হাত নামিয়ে ফেলবেন এরপর হাজরে আসওয়াদকে চুমু বা এস্তেলাম করবেন। এরপর দরুদ পাঠ করতে করতে বাবুস সাফার দিকে চলে যাবেন মসজিদে হারাম থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে বের হবেন আর দোয়া পড়বেন (আল্লাহুম্মা ইন্নি আসয়ালুকা ওয়ামিন ফাদলিক)এরপর দরুদ পাঠ করতে করতে সাফা পর্বতে এতটুকুন উঠবেন যেন কাবা ঘর দৃষ্টিগোচর হয়। আর সামান্যতম উঠলেই কাবা ঘর দৃষ্টিগোচর হয়, একদম উপরে চড়ার দরকার নাই।

এ অবস্থায় সাফা পাহাড়ে আপনি সুরা বাকারার ২৫ আয়াত পড়তে যতক্ষন সময় লাগে ততক্ষন পর্যন্ত দোয়া করুন, দোয়া করার সময় প্রথমে দরুদ পাক পাঠ করে ২ হাত তুলে কাবার দিকে মুখ করে দোয়া করুন, মনে রাখবেন এটা দোয়া কবুল হওয়ার স্থান। নিজের জন্য সকল মুমিনিন মুমিনাত এর জন্য দোয়া করতে থাকুন। দোয়া করে হাত ছেড়ে দিবেন এবং সায়ীর নিয়ত করবেন- (আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুস সাআয়া বায়নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতে সাবয়াতা আশওয়াতিন লিওয়াজহিকাল কারিম ফায়াসসিরহু লি ওয়াতাকাব্বালহু মিন্নি) এবার সাফা থেকে মারওয়ার দিকে যেতে থাকুন তাকে সবুজ  সিগনেল দেখবেন সেখান থেকে যারা পুরুষ তারা দৌড়বেন তবে মহিলারা দৌড়বেনা। যেখান থেকে সবুজ সিগনেল শুরু সেখান থেকে দৌড়বেন আর এ 
দোয়া পাঠ করবেন-
যখন ২য় সবুজ সিগনেল শেষ হবে সেখান থেকে দৌড়া বন্ধ করে স্বাভাবিক গতিতে মরওয়ার দিকে যাবেন একেবারে উপরে উঠার প্রয়োজন নাই প্রথম সিড়ি পর্যন্ত উঠার পর যদিও কাবা ঘর দেখা না যায়  তবুও কাবার দিকে মুখ করে ২ হাত তুলে দোয়া করুন যেমন সাফায় করেছেন। সুরা বাকারার ২৫ আয়াত পাঠ করতে যতক্ষন সময় লাগে ততক্ষন দোয়া করুন নিজের জন্য সকল মুসলমান নর নারীর জন্য দোয়া করুন। এখন আপনার প্রথম চক্কর হয়ে গেল। 
এবার আবার মারওয়া থেকে সাফার দিকে রওয়ানা হয়ে যান যখন সে সবুজ সিগনেল আসবে সেখানে আগের মত সে দোয়া পাঠ করুন আর দৌড়তে দৌড়তে ২য় সবুজ সিগনেল এ গমন করুন, এর পর আর দৌড়ানোর প্রয়োজন নাই, এবার স্বাভাবিক ভাবে সাফা পাহাড়ে চড়ে আবার কেবলার দিকে হয়ে আগের মত দোয়া করুন এভাবে আপনার ২য় চক্কর হয়ে গেল। এভাবে মোট ৭ চক্কর হবে আর শেষ চক্কর আপনার মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে শেষ হবে। এভাবে আপনার সায়ী শেষ হবে। সায়ী শেষে ২ রাকাত নফল নামাজ মসজিদে হারাম আদায় করবেন যদি মকরুহ ওয়াক্ত না হয়। এ নামাজ মুস্তাহাব।
এরপর আপনাকে যদি পুরুষ হন মাথা মুন্ডাতে হবে অথবা চুল ছাটতে হবে আর কমাসকম সম্পূর্ণ মাথা থেকে ৪ ভাগের এক ভাগ চুল কাটতে হবে। আর মহিলারা মাথা মুন্ডানো হারাম তারা কছর করবেন। 

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ যে আপনি একটা ওমরাহ পরিপূর্ণ করে নিলেন। 

মনে রাখবেন তাওয়াফ অবস্থায় কিছু কাজ করা হারাম  যেমন (১) অযুবিহিন তাওয়াফ করা (২) অপ্রয়োজনে পালকি কিংবা অন্যের কাঁধে করে তাওয়াফ করা (৩) কাবা ঘরকে ডান দিকে রেখে উল্টা তাওয়াফ করা (৪) তাওয়াফের সময় হাতিম এর ভিতর দিয়ে যাওয়া (৫) সতর খুলা মহিলারা এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকবেন, অনেক মহিলা হাজরে আসওয়াদকে এস্তেলাম করার সময় পুরা হাত থেকে কাপড় সড়ে যায় যায়। 

তাওয়াফ কালীন কিছু বিষয় মকরুহ যেমন (১) অপ্রয়োজনীয় কথা বলা (২) রমল ও এস্তেলাম বাদ দেয়া (৩) ২  তাওয়াফ এর মধ্যে বেশিক্ষন বিরতি দেওয়া, তবে জরুরী অবস্থায় পেশাব-পায়খানার জন্য যেতে পারবে এবং হাজত সেরে অযু করে এসে বাকী তাওয়াফ সেরে নিতে অসুবিধা নাই।(৪) তাওয়াফ কালীন কিছু খাওয়া মাকরুহ তবে পানি পান করতে পারবে (৫) প্রশ্রাব পায়খানার বেগ নিয়ে তাওয়াফ করা।

তাওয়াফ ও সায়ী কালীন কিছু কাজ যায়েজ আছে যেমন (১) সালাম দেওয়া ও সালামের জবাব দেয়া (২) প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কথা বলা (৩) পানি পান করা, সায়ী কালীন খাওয়া যায়েজ। (৪) দোয়া –দরুদ হামদ নাত এসব আস্তে আস্তে পাঠ করা। (৫) তাওয়াফকালীন নামাযীর আগে চলাচল যায়েজ, তবে সায়ী করার সময় নামাজির সামনে চলাচল করা যায়েজ নাই।

সায়ী করার সময় কিছু কাজ মাকরুহ যেমন (১) অপ্রয়োজনে চক্কর সমুহে দেরী করা (২) অপ্রয়োজনীয় কথা বলা (৩) বেচা কেনা করা (৪) কোন কারন ছাড়া মাসয়া যেখানে দৌড়তে হয় তাতে না দৌঁড়ানো, তবে ওজর থাকলে ভিন্ন কথা।
 
মনে রাখবেন সায়ীর জন্য পরিচ্ছন্নতা শর্ত নয় তাই মহিলারা তাদের পিরিয়ড চলাকালীন সময়ও সায়ী করতে পারবে। মহিলারা ভিরের কারনে যেহেতু তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদকে চুমা দিতে পারে না তাই দুপুর ১২ টার দিকে যখন ভির কম থাকে তখন মহিলাদের জন্য তাওয়াফ এর উত্তম সময়।

আল্লাহ আপনার আমার সকলের ওমরাহ কবুল করুন, আমিন।

এবার মদীনায় হাজেরীর সময় এসেছে 
এখন আপনি মদীনা মনোয়ারায় সফর করবেন নাতে রাসুল শ্রবন করতে করতে দরুদ ও সালাম পাঠ করতে করতে নবী প্রেম অন্তরে জাগ্রত করে রওয়ানা হয়ে যান। মক্কা থেকে মদীনার দুরুত্ব 425কি মি. কয়েক ঘন্টার সফর, এর পরই সবুজ গম্বুজের দৃশ্য দেখে আপনার চোখ ঠান্ডা হয়ে যাবে। যখনই দুর থেকে মসজিদে নববী আর গুম্বিদে হাজরা দৃষ্টিগোচর হবে আপনার হৃদয় কেঁপে উঠবে, দু-চোখ পানি ধরে রাখতে পারবে না।

বর্ণিত আছে হযরত ইমাম মালেক (রহঃ) মদীনা শরীফে খালি পায়ে চলাচল করতেন না, তিনি কখনও ঘোড়ার উপর সাওয়ার হতেনা না, এ আশেকে রাসুল বলতেন আমার লজ্জা করে যে জমিনে পেয়ারা নবী (দঃ) শায়িত তাতে আমি ঘোড়ায় চড়ে চলাচল করি।
মদীনার অলিগলিতে থুথু ফেলবেন না, নাক সাফ করবেন না হতে পারে আপনি যেখানে থুথু ফেলছেন সেখানে নবীজির কদম মুবারক পরেছিল।

মদীনা শরীফ পৌছেঁ নিজের রুমে গিয়ে জিনিষপত্র রেখে খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম গ্রহন করুন। এরপর সুন্দরভাবে অযু করে নতুন সাধা কাপড় সাধা পাগড়ী পরিধান করে আতর লাগিয়ে সুরমা লাগিয়ে রাওযার দিকে চলুন। এতদিন যা আপনি ছবিতে দেখেছেন মনে মনে যা দেখার আকাংখা লালিত পালিত করে আসছিলেন আজ তা আপনার সামনে। এটাতো সেই মুকাদ্দছ স্থান যার মত সম্মানিত স্থান দুনিয়ায় ২য় টি নাই।

সুতরাং খুবই আদবের সাথে বাবুল বাকী নামক দরজায় হাজির হবেন এখনে এসে (আসসালাতু আসসালামু আলাইকা এয়া রাসুলাল্লাহ) বলে ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশের দোয়া পাঠ করে প্রবেশ করবেন এখন আপনার হাত, পা, চোখ, কান, জবান, অন্তর সবকিছুকে অন্যকিছু থেকে সম্পূর্ণ বিরত রেখে কাঁদতে কাঁদতে এদিক ওদিক তাকাবেন না এখন শুধু  ভাববেন একটাই চিন্তা শুধু আপনি একজন পলাতক আসামী আপন আঁকার দরবারে যাচ্ছেন। 

এবার মসজিদ নববীতে ২ রাকাত তাহিয়্যাতুল অযু এবং ২ রাকায়াত শোকরানা নামায আদায় করবেন।

এরপর অশ্রুসজল নয়য়ে ঘারকে নিচু করে, কাপতে কাপতে পলাতক আসামীর মত রওজা মোবরক এর নবীজির পা মোবারক এর দিক থেকে রওজার নিকট উপস্থিত হবেন, এখানে কাবার দিকে পিট করে, সরকারে দু-জাহানের চেহারায়ে আনোয়ার এর দিকে মুখ করে নামাজে দাঁড়ানোর মত করে অতীব আদবের সাথে দাঁড়াবেন। মনে রাখবেন নবী করিম (দঃ)কবরে আনোয়ারে স্ব-শরীরে জীবিত এবং তিনি আপনাকে দেখতেছেন। সোনালী জালি চুমা দেওয়া ও হাত লাগানো থেকে বেঁচে থাকবেন এটা আদবের খেলাফ। এবার আদব এর সাথে সালাম পেশ করুন উচুঁ আওয়াজে না এবং একেবারে নিচু আওয়াজও না বরং মাঝামাঝি আওয়াজের সাথে সালাম পেশ করুন (আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ, আসসালামু আলাইকা এয়া রাসুলাল্লাহ, আসসালামু আলাইকা এয়া হায়রা খালকিল্লাহ, আসসালামু আলাইকা এয়া শাফিয়াল মুজনাবিন,আসসালামু আলাইকা ওয়ালা আলিকা ওয়াসহাবিকা ওয়া উম্মাতিকা আজমাঈন) 
এভাবে বিভিন্ন লকব সহকারে সালাম আরজ করুন যদি লকব না জানেন তাহলে বারবার বলতে থাকুন (আসসালামু আলাইকা এয়া রাসুলাল্লাহ) এবং খুব বেশী বেশী অশ্রুসজল নয়নে দোয়া করুন এবং (আসয়ালুকাশ শাফায়াতা এয়া রাসুলাল্লাহ) হে রাসুল আমি আপনার কাছে শাফায়াতে দরখাস্ত করতেছি এভাবে বার বার শাফায়াতের দরখাস্ত করুন।

মনে রাখার বিষয় হল- যদি কেহ নবীজির রওজার সামনে দাঁড়িয়ে একবার এ আয়াত পাঠ করবেন (ইন্নাল্লাহা ওয়ামালাইকাতাহু ইসাল্লুনা আলান নাবিয়্যি, এয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু সাল্লু আলাইহে ওয়াসাল্লিমু তাসলিমা) এবং ৭০ বার এ দরুদ পাঠ করবেন (সাল্লাল্লাহু আলাইয়কা ওয়াসাল্লামা এয়া রাসুলল্লাহ) তাহলে তার জবাবে ফেরেশগন উক্ত সালাম দানকারীর জন্য দোয়া করে বলে হে আল্লাহ এর সকল হাজত পুরা করে দাও।
 
এরপর ছিদ্দিকে আকবর কে সালাম দিবেন (আসসালামু আলাইকা এয়া খালিফাতা রাসুলিল্লাহ, আসসালামু আলাইকা এয়া ওয়াজিরে রাসুলিল্লাহ, আসসালামু আলাইকা এয়া সাহেবে রাসুলিল্লাহ ফিল গারে ওয়ারাহমতুল্লাহি ওয়াবারকাতু)

এরপর ফারুকে আযম কে সালাম দিবেন আসসালামু আলাইকা এয়া আমিরাল মুমিনিন, আসসালামু আলাইকা এয়া মুতাম্মিমাল আরবাঈন, আসসালামু আলাইকা এয়া আযযাল ইসলামে ওয়াল মুসলিমিন ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ। 

মদীনা মনোয়ারায় যে কদিন থাকবেন যেন সময় অপচয় না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন, বেশীরভাগ সময় মসজিদে নববীতে পাক পবিত্রতার সাথে কাটাবেন, দোয়া, দরুদ-সালাম, তেলাওয়াত এসব কাজে ব্যায় করবেন। এখানের প্রতিটা নেক আমলের বদলায় ৫০ হাজার ছাওয়াব পাবেন। 

সময় ও সুযোগ মত বিভিন্ন সম্মানিত স্থান সমুহের যেয়ারত করে নিবেন, বিশেষ করে জান্নাতুল বাকী, উহুদ পাহাড়, শোহাদায়ে উহুদগনের মাযারসমুহ সহ অন্যান্য সম্মানিত স্থানসমুহ ও প্রসিদ্ধ মসজিদসমুহ দেখবেন। 
সব শেষে বিদায়ের পালা।
বিদায়ের বেলায় কেঁদে কেঁদে দোয়া করুন আর বার বার যেয়ারতের দরখাস্ত করুন, ঈমানের সাথে মৃত্যু দরখাস্ত করুন, জান্নাতুল বাকীতে দাফন হওয়ার আকাংখা পেশ করুন। এভাবে বিদায়ের সময় উল্টা কদমে বের হয়ে আসুন আর বার বার রওজার দিকে এমন দৃষ্টিতে দেখুন যেমন কোন বাচ্চাকে যখন তার মায়ের কোল থেকে পৃথক করা হয় তখন বাচ্চা যেমন মায়ের মুখের দিকে করুন দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে যেন মা আবার বুকে টেনে নেয়।

সালাতু সালামগো আমার, দরুদ ও সালামগো আমার কয়ো নবী মোস্তফায়, তোমরা যদি যাওগো মদীনায়।

জীবনকন্ঠ/পিডি

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - janoterkontho@gmail.com or মতিঝিল অফিসঃ খান ম্যানশন, ১০৭ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

আপনার মতামত লিখুন :