তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার নিয়ম

সংবাদদাতা
সংবাদদাতা
প্রকাশিত: 0১:৪২, অক্টোবর 0১ ২0১৮ |
Print
ফাইল ছবি

কয় রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ পরতে হয়?

☞ তাহাজ্জুদ নামাযের ওয়াক্তঃ
তাহাজ্জুদের অর্থ হল ঘুম থেকে উঠা। কুরআনে
রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের যে তাকীদ করা
হয়েছে তার মর্ম এই যে, রাতের কিছু অংশ
ঘুমিয়ে থাকার পর উঠে নামায পড়া। তাহাজ্জুদের
মসনূন সময় এই যে, এশার নামাযের পর লোকেরা
ঘুমাবে। তারপর অর্ধেক রাতের পর উঠে নামায
পড়বে। নবী (সাঃ) কখনো মধ্য রাতে, কখনো
তার কিছু আগে অথবা পরে ঘুম থেকে উঠতেন
এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে-
ইমরানের শেষ রুকুর কয়েক আয়াত পড়তেন।
তারপর মেসওয়াক ও অযু করে নামায পড়তেন।
☞ তাহাজ্জুদ নামাযের সময়ঃ
অর্ধ রাতের পরে। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের মুল সময় মুলত রাত ৩টা
থেকে শুরু হয়ে ফজরের আযানের আগ
পর্যন্ত থাকে। তবে ঘুম থেকে না জাগার
সম্ভাবনা থাকলে ইশা সালাতের পর দু রাকআত সুন্নত
ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েয
আছে। তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুতের মর্যাদা
পেতে হলে, এশার নামাযের পর ঘুমিয়ে রাত ২টা
বা ৩টার দিকে উঠে নামায আদায় করতে হবে।
☞ তাহাজ্জুদ নামাযের রাকআত সংখ্যাঃ
সর্ব নিম্ন দু রাকআত। আর সর্বোচ্চ ৮ রাকআত পড়া
উত্তম। তাহাজ্জুদের ৮ রাকাত নামায আদায় করার
পরে, বিতর ৩রাকাত নামায পড়া। রাসুল (সাঃ)
তাহাজ্জুদের নামায বেশিরভাগ সময় ৮রাকাত পরতেন
এবং এঁর পর বিতরের নামায পরে মোট ১১রাকাত
পূর্ণ করতেন।
১। তাহাজ্জুদ নামায বিতরসহ ১৩, ১১, ৯ কিংবা ৭ রাকাত পড়া
যায় (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)
২। প্রথমে দু’রাকাত ছোট ছোট সুরা মিলিয়ে
হালকাভাবে পড়ে আরম্ভ করবে (মুসলিম,
মেশকাত ১০৬ পৃঃ)
৩। অতঃপর দু’রাকাত করে, তাহাজ্জুদের নামায সাত
রাকাত পড়তে চাইলে দু’সালামে চার রাকাত পড়ে
তিন রাকাত বিতর পড়বে । (বুখারী, মেশকাত ১০৬
পৃঃ)
বিঃদ্রঃ- যদি এশার নামায পরে বিতরের নামায পড়ে
থাকেন, তবে তাহাজ্জুত নামায পড়ার পড়ে বিতর
নামায পড়ার দরকার নেই। তখন ২ রাকাত থেকে শুরু
করে ৮রাকাত তাহাজ্জুত নামায পরলেই হবে।
☞ তাহাজ্জুদ নামাযের আগে করণীয়ঃ
হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) যখন তাহাজ্জুদ
পড়তে উঠতেন তখন মিসওয়াক করতেন এবং
আমাদেরকেও মিসওয়াক করার হুকুম দেয়া হত,
আমরা যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতাম, অতঃপর নবী
(সাঃ) অযু করতেন (মুসলিম) । তারপর নীচের দু’আ
ও তাসবীহগুলি দশবার করে পড়তেন । তারপর নামায
শুরু করতেন (আবু দাউদ, মেশকাত ১০৮ পৃঃ)
(১) দশবার “আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)
(২) দশবার আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর
জন্যই)
(৩) দশবার সুব্হানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী (আমি আল্লাহ
প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ঘোষনা করছি)
(৪) দশবার সুব্হানাল মালিকিল কদ্দুস (আমি মহা পবিত্র
মালিকের গুণগান করছি)
(৫) দশবার আসতাগফিরুলাহ (আমি আল্লাহর কাছে
ক্ষমা ভিক্ষা করছি)
(৬) দশবার লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের
যোগ্য আর কেউ নেই)
(৭) দশবার আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন
দীক্বিদ্দুনিয়া ওয়া দীক্বি ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ (হে
আল্লাহ! আমি এই জগতের এবং পরকালের সঙ্কট
থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
☞ তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়মঃ
তাহাজ্জুদ নামায পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন সুরা নেই।
যে কোন সুরা দিয়েই এই নামায আদায় করা যাবে।
তবে যদি বড় সুরা বা আয়াত মুখুস্ত থাকে তবে,
সেগুলো দিয়ে পড়াই উত্তম। কারন রাসুল (সাঃ) সব
সময় বড় বড় সুরা দিয়ে তাহাজ্জুদ নামায আদায়
করতেন। তাই আমাদেরও বড় সুরা মুখুস্ত করে, তা
দিয়ে তাহাজ্জুত নামাদ আদায় করা উচিৎ।
যাইহোক, বড় সুরা মুখুস্ত না থাকলে যে কোন
সুরা দিয়েই নামায আদায় করা যাবে। নিয়ম হল ২রাকাত
করে করে, এই নামায আদায় করা। প্রত্যেক
রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়ার পর, অন্য যে কোন সুরা
মিলানো। এভাবেই নামায আদায় করতে হবে।
আল্লাহ, আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদের পরিপূর্ণ
মর্যাদা লাভ করার তৌফিক দাণ করুন। আমিন..

জীবনকন্ঠ/পিডি
বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - janoterkontho@gmail.com or মতিঝিল অফিসঃ খান ম্যানশন, ১০৭ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

আপনার মতামত লিখুন :