আমার গাড়ির বহর ৫২ থেকে ৮টিতে নামিয়ে এনেছি : প্রধানমন্ত্রী

সংবাদদাতা
সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১0:৩৫, ফেব্রুয়ারী ২৭ ২0১৯ |
Print
ফাইল ছবি

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, এক সময়ে তার নিজের গাড়ি বহরে ৫২টি গাড়ি থাকলেও তা কমিয়ে মাত্র আটটিতে নামিয়ে এনেছেন।বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে এলাম, দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে ৫২ খানা গাড়ি। আমি সেটা কাটছাঁট করে পুলিশের গাড়ি, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)’র গাড়ি নিয়ে মাত্র আটখানা গাড়ি করে নিলাম, এর বেশি নয়।

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদের করা রাজধানীর যানজট বিষয়ক এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন সংসদ নেতা।

বিকেলে ৪টা ৪৫ মিনিটের পরপরই স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

এতে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ তার সম্পূরক প্রশ্নে ট্রাফিক পুলিশ নিজেই সড়কে যানজট সৃষ্টি করার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী এমন মত দেন। তিনি বলেন, সড়কে এখন অটোমেটিক সিগনাল লাইট রয়েছে, লাল বাতি জ্বললে আমরা থেমে যাবো, কিন্তু ওই সময় ট্রাফিকের হাত থাকে এবং ইচ্ছা মতো দশ/পনের মিনিট পথ আটকে রাখেন। তাতে বড় লাইন পড়ে যায়, যানজটের সৃষ্টি হয়।

আর একটা প্রধান কারণ হলো রিকশা, ঝাঁকে ঝাঁকে রিকশা, এমন মত দিয়ে এই সংসদ সদস্য জানতে চান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে বলে দেবেন যেনো এখন থেকে ট্রাফিক সিগনাল অনুযায়ী গাড়ি চলে?

এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার জবাবে বলেন, সিগন্যালের ব্যবস্থাটা মাঝে একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটাকে আবার আমরা চালু করে দিয়েছি। এখন ক্ষেত্র বিশেষে হয়ত ট্রাফিক পুলিশ এভাবে আটকান তবে সেটা যেনো না হয় সে ব্যাপারে ইতোমধ্যে সেই নির্দেশ দেওয়া আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাননীয় সদস্য যখন আজকে বললেন, অবশ্যই আমরা আবার আমাদের সিগনাল কন্ট্রোল যেখানে হয় তাদেরকে বলবো। তারা যেনো এই বিষয়টার দিকে আরও একটু নজর দেন, বেশি সময় যেন ট্রাফিক আটকে না রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তার নিজের প্রসঙ্গ টেনে সংসদকে জানন, সড়কে যানজট কমাতে তিনি নিজেও এখন কম বের হন।  শেখ হাসিনা বলেন, ‘বলতে গেলে বের হওয়াতো ছেড়েই দিয়েছি। কারণ বের হলেই ট্রাফিক আটকায়। ট্রাফিক যাতে না আটকায় সে জন্য অফিস এবং কোন জায়গায় যদি কোন কর্মসূচি থাকে সেখানে ছাড়া আর কোথাও যাওয়াই হয় না।’

তিনি সংসদকে আরও জানান, এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহরে গাড়ির সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসলাম ২০০৯ সালে, দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে ৫২ খানা গাড়ি। সেটা কেটে দিয়ে মাত্র পুলিশের গাড়ি, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) গাড়ি, এই গাড়ি, সেই গাড়ি নিয়ে আটখানা গাড়ি রাখা হলো। এর বেশি না।’

যেন কোন এক্সট্টা কোন গাড়ি না থাকে তার জন্য যথাসম্ভব আমরা চেষ্টা করে যাই। সবসময় বিষয়টা আমাদের মাথায় থাকে, বলেন শেখ হাসিনা।

সংসদ নেতা জানান, কেবল একেবারে অটোমেটিক পদ্ধতিতে, ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাতে ট্রাফিক কন্ট্রোল হয়, সেই ব্যবস্থায় যাচ্ছে সরকার।

‘রাজধানীর কিছু অংশ ইতোমধ্যে এর আওতায় চলে এসেছে। এতে হয়ত এই দুর্ভোগটা কমবে।’

‘তবে বিশ্বের যেকোন দেশেই যান, বড় বড় শহর সব জায়গায় কিন্তু ট্রাফিক একটা বড় সমস্যা। আমরা আজকে বলে নয়, ৮০ সালের কথাই বলি, যখন লন্ডনে ছিলাম, কোন একটা জায়গায় প্রোগ্রাম ধরতে হলে যে রাস্তা মাত্র ২০ মিনিটে পার হওয়া যায়, সেখানে তিন ঘন্টা আগে বাড়ি থেকে বের হতে হতো। ওয়াশিংটনেও ঠিক সেই অবস্থা। কোথাও একটা প্রোগ্রাম রাখতে হলে অনেক আগে বের হয়ে যেতে হয়,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, বড় শহরগুলোর প্রায় সব শহরেই এই সমস্যাটা আছে। কারণ জনসংখ্যা বাড়ছে, মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে। মানুষ গাড়িও কিনছে বেশি, চালাচ্ছেও বেশি।

‘এসব কারণে সর্বত্রই এই সিগনাল কন্ট্রোল করতে যেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন। তারপরও আমি মনে করি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলে আসলে এটা আরও সহজ হবে।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য। কাজ করি মানুষের জন্য। নিজের জন্য নয়। মানুষের কিসে ভালো, মানুষের কিসে মন্দ, সেটা জানার চেষ্টা করি এবং মানুষের সমস্যাগুলি সমাধানেরও চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। কাজেই সেটাকে আমি কতর্ব্য হিসাবেই নিয়েছি। ক্ষমতাটা ভোগ করার বিষয় না, জনসেবা দেয়ার বিষয়। সেজন্য দেশটাকে জানাও একান্তভাবে প্রয়োজন। একারণেই কিভাবে মানুষের জন্য একটু কল্যাণকর কাজ করতে পারি সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’


জনতারকন্ঠ/পিডি


বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - janoterkontho@gmail.com or মতিঝিল অফিসঃ খান ম্যানশন, ১০৭ মতিঝিল, ঢাকা-১০০০

আপনার মতামত লিখুন :